সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে নব্বই দশক পর্ব- ২

সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে নব্বই দশক পর্ব- ২

এ আই তরিকুল

আকবর-মনোয়ারার বিয়ের প্রস্তুতি চলছে, পাড়ার মানুষ খুব উল্লাসী, রাত হয়েছে তবুও উল্লাস-ছুটা-ছুটির কমতি নাই। গায়ে হলুদ ছোড়াছুড়ি করছে, শিশু কিশুর রা বেশ আনন্দিত। কাল শুক্রবার বিয়ে হবে তাই আজ মহানন্দ। আকবরের মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে ভেতরে ভেতরে খুব খুশি। লজ্জায় মাথা নিচু করেই রাখে।

আজ শুক্রবার। মনোয়ারা দের বাড়িতেই বিয়ের অনুষ্ঠান হবে। কলা বাগান থেকে বড় বড় দেখে দুটি কলাগাছ নিয়ে আসা হয়েছে।
কলাগাছ দুটির মাঝে এই পরিমান ব্যাবধান রাখা হয়েছে যেনো রিকশা এর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। উপর থেকে কলাপাতা-কলাপাতা সুশ্রী করে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বরযাত্রীদের জন্য গেইট বানানো শেষ হলো। বিয়ের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে মনোয়ারা বেগমের মন ততই খারাপ হচ্ছে। বিয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সেরে ফেলছে সবাই। এখন অপেক্ষা শুধু বরযাত্রীর।

শিশু, কিশোর-কিশোরী রা গভীর আগ্রহে আধ কিলোমিটার দূরে গিয়ে অপেক্ষা করছে। সেখান থেকে স্বাগত জানিয়ে নিয়ে আসবেন জামাই আকবর হোসেনকে।

সবাই নতুন জামা পরেনি, যাদের আছে তারাই পরেছে। অপেক্ষার প্রহর কাটলো, দেখা যাচ্ছে একদল মানুষ হেঁটে হেঁটে আসছে। সবার মাঝে একটা রিকশা।

ও’ই! জামাই আইতাছে রে..
ও’ও ওঁও্ ও্ (মহানন্দ)

বরযাত্রী দল কাছে আসতেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে রিকশাটি খালি। কিশোরেরা হতবাক হলো, জামাই আকবর হোসেন পায়ে হেঁটে আসছেন সবার সাথে।

আকবর একজন শ্রদ্ধাশীল যুবক, মুরুব্বিরা হেঁটে আসছে, সে রিকশায় বসে থাকতে পারবে না। নব্বই দশক বা তার আগের যুবকরা মুরুব্বিদের প্রতি অতি শ্রদ্ধাশীল ছিল।

কনের বাড়িতে আসা হলো, উল্লাসের হৈ চৈ এর মাঝে, লোকেদের মুখে মুখে বলাবলি হচ্ছে জামাই বেশ আদিব।

মেম্বার সাবঃ
“আগে বিয়ার কাম শেষ করেন পরে খানা দানা করাম নে”

সবাই উঠানে বসলো, কাজী সাহেব জিজ্ঞেস করছেন,
“কাবিন কত হবে ভাইসাব”
আকবরের পক্ষ থেকে তার চাচা বললেন “ত্রিশ হাজার টাকা।”

মনোয়ারার পক্ষ থেকে তার মামা বলে উঠলো
ক্যার ত্রিশ? ত্রিশ হাজার টাকা কাবিন হয় নাকি? (সাথে একটা গালি ও মেরেছেন)
কমজাদের বাচ্ছারা আইছে বিয়া করতো

শুরু হয়ে গেলো চাচা-মামা শশুরের কথা কাটা কাটি। আকবর থামাতে গেলে তাকে চুপ থাকতে বলা হলো।
“আকবর তুইন চুপ থাক”

  • হাতাহাতি হওয়ার উপক্রম বোধ করছিল আকবর।
  • হটাৎ, রহিমা বেগম আসলেন
  • “আমনেরা থামেন” (খুব উঁচ্চ স্বরে)

চাচা-মামা শশুরেরা থামতে রাজি ছিল না। দুজনই মজলিসে দাঁড়িয়ে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।

রহিমা বেগম বললেন, “নিজেরা নিজেরা কাইজ্জা করতাসেন এটা কি খুব ভালো হইতাসে? এইখানে আপনাদের ও মুরুব্বি আছে তারা যেইটা সিদ্ধান্ত দিবো ওইটাই অইবো”।

মেম্বার সাহেব সিদ্ধান্ত দিলেন, ৪০ হাজার টাকা কাবিন, ১০ হাজার টাকা উসল, ২.৫ হাজার টাকা দেনমোহর।

কাজী সাহেব তার বিয়ের কাজ শুরু করলো। মনোয়ারা বেগমকে কবুল বলতে খুব দেরি হলো। মনোয়ারার আকাঙ্খা ছিল, বড়লোক বাড়ির বউ হওয়ার। তার শশুর বাড়ির মানুষজন যদি বড়লোক থাকতো তাহলে আর কাবিনের টাকা নিয়ে ঝগড়া হতো না। বরযাত্রীদের পায়ে হেঁটে আসতে হতো না। অর্থ বিত্তের সুখের সীমা নাই, এটি সে তার বান্ধবীর শশুর বাড়ির অবস্হা দেখে বুঝতে পারছিল।

যাই হোক, সবাই বিয়ে বাড়ির সাদা ভাতের সাথে দেশি মুরগির মাংসের স্বাদ উপভোগ করতে ভীষণ অপেক্ষা করছে। খাওয়া-দাওয়া হলো। বউ নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো।

পর্বঃ ৩ লিংক

পর্বঃ ৪ লিংক

পর্বঃ ৫ লিংক

Be the first to comment

Leave a Reply