সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে নব্বই দশক পর্ব- ৫

সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে নব্বই দশক পর্ব- ৫


গ্রাম সরকারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো, আমাদের সাথে এক ছেলেকে পাঠিয়েছে, ছেলেটার নাম ঠিক মনে নেই, সোহেল বা সুমন হবে হয়তো। সামান্য পরিচিত হলাম, ক্লাস সেভেনে পরে সে, গ্রাম সরকারের ভাতিজা। 

  • হাত মুখ ধুইয়া আসেন
  • টিউবয়েল আছে?
  • হুঁ.. বেল গাছের সাথে

হাত-মুখ ধুইয়ে আসলাম, বাড়ির সামনে জোড়া পুকুর, দুই পুকুরের মাঝখান দিয়ে বাড়িতে যেতে হয়। তুষি কে ভাবি ডাকে, আমার নাম জিজ্ঞেস করে জেনে নিয়েছে, এখন আমাকেও শাহীন ভাই বলে ডাকছে। ছেলেটা কে আতিথেয়তায় অভিজ্ঞ মনে হলো কাজের কথা ছাড়া অতিরিক্ত প্রশ্ন করছে না। পশ্চিমের ঘরটা মেহমানদের জন্য আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো।

পাঙ্গাস মাছ ভূনা, পালংশাক, মসূর ডাল খেতে দিয়েছে। তুষি পাঙ্গাস খায় না, আমি খাই। এখন খিদে পেয়েছে, খেতে হবে আমার খাওয়া দেখে সেও খাচ্ছে, মাছ আর পালংশাক খাওয়া শেষ ডাল নিলাম, ডালের আসল স্বাদ পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

  • কে রান্না করেছে গো?
  • জেঠিমা রান্না করছে”
  • খুব মজার রান্না জানে তাই না?
  • হুঁ
  • তুমার জেঠিমার ঘর কোনটা?
  • সকালে দেইখেন, জেঠিমা কইছে সকালে নিয়া যাইতাম
  • আচ্ছা, নিয়া যায়ো

খাওয়া শেষ হলো। বেতের তৈরি শীতল পাটি বালিশের কভারটাও নতুন আজকে আপনারা এইখানেই থাকবেন,

  • কোল বালিশ দিতে পারবা? একটা?
  • দেখি!
  • কোল বালিশ নাই
  • যেইটা আছে আমারই লাগবো”
  • ও, আচ্ছা

এই ঘরটা টিনসেটের বাকি গুলা মাটির কোঠাবাড়ি, খুব পরিপাটি পরিবেশ। আমি ঘুমিয়ে গেছি হঠাৎ তুষি নাড়া দিয়ে ডাক দিয়েই বলছে- তুমি কী ঘুমিয়ে গেছো?

  • হুঁ  ঘুমাও
  • আমার ঘুম আসে না
  • বারবার ডাকাতের কথা মনে হৈতাছে
  • ক্যানো?

Be the first to comment

Leave a Reply